রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩২ অপরাহ্ন
মোঃ ইমরান হোসেন হৃদয়, শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের শার্শা উপজেলার বেলতলা বাজারে বাণিজ্যিকভাবে জমে উঠেছে মৌসুমী ফল কুল (বরুই) এর বাজার। কুল ও আম মৌসুমে মুখরিত হয়ে ওঠে এখানকার সব আড়তগুলো। প্রতিদিন এখান থেকে ছোট বড় প্রায় ২০ থেকে ২৫ ট্রাক কুল রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে রপ্তানি হচ্ছে।
যশোর- সাতক্ষীরা দু’জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শা ও কলারোয়া জিরো পয়েন্ট বেলতলা নামক স্থানে এ বাজারটি অবস্থিত। এবছর বাজারে থাইআপেল কুল ১১০/১২০ টাকা, বলসুন্দরী কুল ৯০/১১০ টাকা, নারকেল কুল ৮০/৯০ টাকা, চায়না কুল ৯০ এবং টককুল ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় কুলচাষি আমির হোসেন জানান, তিনি গত ১০ বছর ধরে কুলচাষ করছেন। এবছরও তিনি ৪ বিঘা জমিতে কুল চাষ করেন। গত বছরও তিনি ৪ বিঘা জমিতে কুল চাষ করেছিলেন। গত বছরের থেকে এ বছর তার অনেক বেশি কুল হয়েছে এবং দামও ভলো পাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, যদি এভাবে শেষ পর্যন্ত কুল বিক্রি করতে পারেন তাহলে অনেক লাভবান হবেন।
ঢাকা থেকে কুল কিনতে আসা বেপারী মিজান, দেলোয়ার ও বশির জানান, হাসিবুল, মদন, রায়হান, তারা দীর্ঘদিন কুল, আম, পিঁয়ারা তরমুজসহ সিজেনারি বিভিন্ন ফলের ব্যবসা করেন। যে কারণে শীত মৌসুমে বেলতলা ফল মুকামে আসেন। এবছর কুলের দাম অনেক বেশি, যার কারণে লাভের পরিমাণ কম, তারপরও আমরা যেমন বেশি দামে কুল কিনছি, ঠিক তেমনই বেশি দামে বিক্রি করছি। এবছর বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় কুল কিনে ভালো দামে বিক্রি করতে পারছেন বলে তারা জানান। রাজশাহী থেকে আসা বেপারী রায়হান জানান, এই অঞ্চলের ফলের স্বাদ ভালো, ক্রেতারাও বেশিবেশি খায়। যে কারণে প্রতিবছর এই মুকাম থেকে কুলসহ বিভিন্ন ফল কিনতে আসি, ব্যবসায় লাভ-লস দুটোই হয়।
বেলতলা বাজারের স্থানীয় আড়তদার কামাল মাস্টার , জাহাঙ্গীর,হৃদয়, হাসান জানান, গত বছরের তুলনায় এবছর কুলের ফলন অনেক বেশি। সেই সঙ্গে কুলের চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় ব্যবসা ভালো এবং চাষিরাও খুশি। বেলতলা বাজারে চাষিরা সঠিক ওজন এবং সঠিক মূল্যে কুল বিক্রি করতে পারেন। তাই তারা নিঃসন্দেহে এ বাজারে ফুল বিক্রি করতে আসেন। এ বাজারে প্রতিদিন সকাল ১১ টা থেকে সন্ধ্যা ৫ টা পর্যন্ত কুল বেচাকেনা চলে জানান আড়তদাররা।
বেলতলা বাজার কমিটির সভাপতি মাহমুদ সরদার,ও সেক্রেটারি কামরুজ্জামান মুন্না জানান, চাষি ও ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারে সেজন্য বাজারে সব ধরনের ব্যবস্থা আছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর বাজারে অনেক কুল আমদানি হচ্ছে, বেপারীও বেশি এসেছে। এভাবে যদি আরও ২/৩ বছর যায় তিনি আশাবাদী বেলতলা ফলের মুকাম দেশের দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে বিখ্যাত ফল বাজার হিসেবে পরিচিতি অর্জন করবে।
এবিষয়ে শার্শা উপজেলা কৃষি (কর্মকর্তা) দীপক কুমার সাহা জানান, চলতি মৌসুমে ১৪৮ হেক্টর জমিতে ৫১০ জনের মত চাষি ফুল চাষ করেছেন। এবছর থাইআপেল, বলসুন্দরী, চায়না, টকমিষ্টি কুলগুলোই চাষিরা বেশি চাষ করেছেন এবং লাভবানও হয়েছেন। কম খরচে অধিক লাভ হওয়াতে দিনে দিনে অন্য কৃষকরা কুল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। আগামী বছরও এই লাভজনক ফল কুল বেশিবেশি চাষ করবেন বলে তিনি আশাবাদী।
2025 © জনপদ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রয়োজনে যোগাযোগঃ ০১৭১২-০৬৮৯৫৩